সিলেটের জকিগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। হামলায় ওই যুবকের ডান হাত ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর কাজলসার ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারের পশ্চিম পাশে জামুরাইল রাস্তার মুখে এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম মারজান আহমদ (২০)। তিনি কাজলসার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামুরাইল গ্রামের মাওলানা মো. আব্দুল জলিলের ছেলে এবং প্রবাসে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা আহমেদ হুসাইনের ছোট ভাই।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চৌধুরী বাজারে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অন্যদের সঙ্গে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন মারজান।
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুল মুনিম ও মোস্তাফিজুর রহমান তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করেন মারজান। তার দাবি, অনুষ্ঠানে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মারজান তাদের জানান, অনুষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সর্বসাধারণের জন্য আয়োজিত। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
মারজান বলেন, “তারা আমাকে বলে, আমি কেন ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছি। আমি বলি, এটি সবার অনুষ্ঠান, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। এরপর তারা আমাকে হুমকি দিতে থাকে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে গেলে আমার পরিণতি আমার ভাইয়ের মতো হবে বলেও হুমকি দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “একপর্যায়ে তারা আমাকে মারধর শুরু করে। আমার ডান হাতে জোরে আঘাত করলে হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।”
ঘটনার পর স্থানীয়রা মারজানকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা নতুন নয়। মারজানের বড় ভাই আহমেদ হুসাইন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় অতীতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় হুমকি, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অতীতের এসব ঘটনার কারণে আহমেদ হুসাইনকে একসময় এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছিল। এখন তার ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মারজান বলেন, “আগে নিজের চোখে আমার ভাইয়ের ওপর হামলা ও হয়রানি দেখেছি। এখন আমিও একই ধরনের ঘটনার শিকার হলাম। দেশে আমার ভাই নিরাপদ ছিল না, এখন মনে হচ্ছে আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিরাপদ নই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তারা এলাকায় সহিংসতা ও রাজনৈতিক প্রভাব কমবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু এখনো কিছু এলাকায় পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রয়েছে।
তাদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধ সংক্রান্ত ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা সব সময় পাওয়া যাচ্ছে না। অতীতেও বিরোধী মতের লোকজন অভিযোগ করতে গেলে হয়রানি বা অসহযোগিতার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ঘটনার খবর পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের আব্দুল মুনিম ও মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
Leave a Reply