1. admin@zakiganjsangbad.com : admin :
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জকিগঞ্জের জিয়াপুরে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু: পাশে মিললো চিরকুট! জকিগঞ্জের বাবনছড়া খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আম্বিয়া জকিগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কিশোরের মৃত্যু জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান-এর নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণা এসএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছে বাহাউল ইসলাম মাহির জকিগঞ্জে ড. আহমদ আল কবির-কে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান এসএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছে মেধাবী ছাত্র তানভীর আহমদ জকিগঞ্জের উত্তর মনসুপুরে প্রবাসীদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাতা বিতরণ এসএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছে মেধাবী ছাত্র আব্দুল্লাহ আল হাসান নাফি এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে তানজিম ইয়াসির

জকিগঞ্জের ৪নং খলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জায়গা নিয়ে জটিলতা

রহমত আলী হেলালী
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৩৯৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জকিগঞ্জ উপজেলার ৪নং খলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ-এর জায়গা নির্ধারণ নিয়ে চরম জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে সম্প্রতি ইউনিয়নের শতশত নাগরিকের উপস্থিতিতে গণশুনানী করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী আক্তার।
গত ১লা সেপ্টেম্বর গণশুনানীর দিন ধার্য্য করা হলে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী আক্তার দুই পক্ষের ১০ জন করে মোট ২০ জন প্রতিনিধি নিয়ে নিজ কার্যালয়ে শুনানী করেন। শুনানি শেষে উভয় পক্ষের সমঝোতা না হলে সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়ে দেন।
জানা যায়, দীর্ঘ অর্ধশতাব্দিকাল থেকে জকিগঞ্জ পৌর এলাকার নরসিংহপুর গ্রামে কুশিয়ারা নদীর তীরে একটি টিনশেডের আধাপাকা ঘরে চলে আসছিল খলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ-এর কার্যক্রম। এতে ভোগান্তির শেষ ছিলনা ইউনিয়নবাসীর। প্রতি পাঁচ বছর পর নির্বাচন আসলে কখনো চেয়ারম্যান পাল্টেন আবার কখনো পুরনো চেয়ারম্যান থেকে যান। কিন্তু কিছুতেই ভাগ্য বদল হয় না এ ইউনিয়নের মানুষের। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় স্থানান্তর ও নতুন ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে কোথায় হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে দুই পক্ষের যুক্তি পাল্টা যুক্তি।
এক পক্ষ বলছে, খলাছড়া ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ডের মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে ঈদগাহ বাজার। এ বাজার হচ্ছে এ ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বাজার। জকিগঞ্জ-শেওলা সড়কের পাঁশে বাজারটি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত। এছাড়া এ বাজারকে ঘিরে বিজিবি ক্যাম্প, পোস্ট অফিস ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহ বেশ ক’টি স্কুল, মাদ্রাসা রয়েছে। ফলে ঈদগাহ বাজারকে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জন্য অধিক উপযোগি মনে করেন এলাকাবাসী।
তাদের মতে, দীর্ঘ অর্ধশতাব্দিকাল থেকে আমরা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণের জায়গা প্রাপ্তির অভাবে ইউনিয়ন এর বাহিরে পৌরসভা এলাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়েছে। এখন আমরা অনেক সাধনার পর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের জন্য ঈদগাহ বাজারের পাঁশে জায়গা পেয়েছি। তাই ঈদগাহ বাজার এলাকায় আমরা ইউনিয়নের নতুন ভবন করতে চাই। বিশেষ করে ঈদগাহ বাজারের পাঁশের ওই জায়গা ছাড়া ইউনিয়নের আর কোথাও নিজস্ব জায়গাও নাই। ফলে ঈদগাহ বাজারেই ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন এখন সময়ের দাবী।
অপর পক্ষ ঈদগাহ বাজার বীরশ্রী ইউনিয়ন-এর সীমানা ঘেষা দাবী করে বলেন, ঈদগাহ বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হলে ইউনিয়নের পশ্চিম প্রান্তে চলে যাবে। এতে গরীব, অসহায় ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হবেন। এছাড়া ঈদগাহ বাজার বলে ইউনিয়ন পরিষদকে যে জায়গা দেয়া হয়েছে তা ঈদগাহ বাজারে নয়। এটি ঈদগাহ বাজারের অদূরে ধানক্ষেতের ভিতরে। এ কারণে ঈদগাহ বাজারের চেয়ে অনেকটা মধ্যবর্তী স্থান ভূইয়ার বাজারে খলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নতুন ভবন হলে জনসাধারণের জন্য সুবিধা হবে।
তাদের মতে, ঈদগাহ বাজার একটি বাজার হিসেবে যেসকল সুবিধা রয়েছে কম বেশী ভূইয়ার বাজারে সেসকল সুবিধা রয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, ক্লিনিক ও রাইছমিলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ভূইয়ার বাজারে। তাই ভূইয়ার বাজার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হলে সকল ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তাদের দাবী অনুযায়ী ভূইয়ার বাজার ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন করলে যে কোন সময় তারা জায়গা দিতে প্রস্তুত।
তবে সাধারণ ও নিরপেক্ষ মানুষের মতে, ঈদগাহ বাজার বা ভূইয়ার বাজার কোনটা-ই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান নয়। কেননা ঈদগাহ বাজার ও ভূইয়ার বাজার অনেকটা পাশাপাশি বাজার। এই দুই জায়গা নিয়ে টানাটানির কোন অর্থ নেই। এটা গ্রাম্য রাজনীতির শামিল। এসব করে কালক্ষেপন না করে খলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদকে জকিগঞ্জ পৌরসভার কবল থেকে উদ্ধার করে নিজ ইউনিয়নের যে কোন জায়গায় নিয়ে আসা জরুরী বলে তারা মনে করেন। অন্যতায় ইউনিয়নবাসীকে আগের মতো বছরের পর বছর দূর্ভোগ পোহাতে হবে।
এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৪নং খলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম যুগের পর যুগ জকিগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত নরসিংহপুর গ্রামে চলে আসলেও স্থানান্তরের বাস্তবধর্মী উদ্যোগ আজ অবধি কেউ নিতে পারেননি। এতে কষ্টের অন্ত ছিলনা খলাছড়া ইউনিয়নবাসীর। আগেকার দিনে পার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা নদী হয়ে নৌকা যোগে চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় ইউনিয়নবাসী চলাচল করতে পারলেও এখন সেই সুবিধা বিদ্যমান নেই। মানুষ বিভিন্ন দূর দূরান্ত এলাকা থেকে পায়ে হেটে, রিকশায় কিংবা অটোরিকশায় চড়ে আসতে হচ্ছে এ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। অপরদিকে ছোট্ট একটি টিনশেড ঘরে পরিষদের প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে নিয়মিত হিমশিম খেতে হচ্ছে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সচিব থেকে শুরু করে পরিষদে কর্মরত সবাইকে।
বেশ ক’জন এলাকাবাসী জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পূর্বে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কবির আহমদ এবং উনার পিতাকে স্থানীয় ঈদগাহ বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জায়গা প্রদানের জন্য জোর দাবী জানান এলাকাবাসী। তখন বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহমদ ও উনার পিতা এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে ভূমিদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২ জানুয়ারী চেয়ারম্যান কবির আহমদ এর পরিবার খলাছড়া ইউনিয়নের বেউর মৌজার বর্তমান জেএল নং ৩৮, দাগ ১৭২৫ ও ১৭৪৯ মোট ৩৮ শতক জায়গা দানসূত্রে ইউনিয়নের নামে রেজিস্টারী করে দেন।
অনুসন্ধানে জানতে পারি, বর্তমান চেয়ারম্যান কবির আহমদের পরিবার এই জায়গা ইউনিয়ন পরিষদকে রেজিস্টারী করে দেয়ার আগেই ২০১৯ সালের ১২ জুন বৈঠক করে ইউনিয়ন অফিসটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২ জানুয়ারী ঈদগাহ বাজার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ দানসূত্রে জায়গার মালিক হলে ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারী পরিষদের বৈঠকে রেজুলেশনের মাধ্যমে দানকৃত ভূমিতে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই আলোকে ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারী জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য চেয়ারম্যান কবির আহমদ আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার চেয়ারম্যান কবির আহমদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারী উপজেলা প্রকৌশলী ও ১২ই মার্চ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নিকট সরেজমিন তদন্তপূর্বক মতামত সহ প্রতিবেদন প্রেরণে নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্ত শেষে উভয়েই ঈদগাহ বাজারের পাঁশে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স করতে অনাপত্তি জানালে তৎকালীন ইউএনও বিজন কুমার সিংহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত প্রতিবেদ প্রেরণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে অপরপক্ষ আপত্তি তোলে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঈদগাহ বাজারের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের নির্ধারিত ভূমি ও অপর পক্ষের প্রস্তাবিত ভুইয়ার বাজার এলাকা অনেকটা কাছাকাছি। তবে ভূইয়ার বাজার জকিগঞ্জ পৌরসভার একেবারে পাঁশেই অবস্থিত। ভূইয়ার বাজার তুলনামূলক ছোট্ট একটি বাজার। এ বাজার থেকে মাত্র এক থেকে দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে হবে ঈদগাহ বাজার। ঈদগাহ বাজারটি তুলনামূলক অনেক বড় বাজার। এটি খলাছড়া ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বাজার বলে স্থানীয় লোকজন জানান। এ বাজার থেকে প্রায় ৫০০শত ফুট উত্তরে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন করতে একটি পক্ষ অনেকটা কাজ এগিয়ে রেখেছেন। তবে অপর একটি পক্ষ থেকে আপত্তি আসায় থমকে গিয়েছে নতুন ভবন অনুমোদনের কার্যক্রম।
স্থানীয়রা জানান, একটি পক্ষ ভূইয়ার বাজারে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স করার দাবী জানালেও এখনো পরিষদের নামে কোন জায়গা রেজিষ্টারী করে দেননি। তবে ওপর পক্ষ স্থানীয় বৃহৎ বাজার হিসাবে খ্যাত ঈদগাহ বাজারের একেবারে পাশেই ৩৮ শতক ভূমি দান করেন খলাছড়া ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে ভবন নির্মাণের জন্য। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহমদ বলেন, বিগত নির্বাচনের পূর্বে এলাকাবাসীর চাঁপে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জন্য ঈদগাহ বাজারের পাঁশে জায়গা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেই এবং নির্বাচনী ইশতেহারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন করার কথা উল্লেখ করি। পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের পরিবার ঈদগাহ বাজারের পাশে ইউনিয়ন পরিষদকে জায়গা দান করেন। পরে আমার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ইউনিয়ন ভবন নির্মাণের জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রস্তুতি গ্রহণ করি। বর্তমানে কিছু সংখ্যক লোক এনিয়ে আপত্তি জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন। সে অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বেশ কয়েক মাস পর গণশুনানী করেছেন। এখন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী আক্তার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় গণশুনানী হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
জকিগঞ্জ সংবাদ-এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না
প্রতিষ্ঠাতা: রহমত আলী হেলালী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট