জকিগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পর ভারতের করিমগঞ্জ থেকে আবদুল মালিক (৪২) নামের এক দিনমজুরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের সময় ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-বিএসএফ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র সাথে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের নিকট লাশ হস্তান্তর করে। পরে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে লাশটি তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ গ্রহণ করেন স্ত্রী নাছিমা বেগম ও বড় ভাই ওয়াহিদুর রহমান (খখাই)।
নিহত আব্দুল মালিক জকিগঞ্জ উপজেলার ৮নং কসকনকপুর ইউনিয়নের মৌলভীচক গ্রামের মিরাশি বাড়ি’র মৃত ইব্রাহীম আলী’র ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান।
জানা যায়, গত ৮ জুলাই থেকে আব্দুল মালিক নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর পরিবারের লোকজন অনেক খোজাখুজি করে তাকে পাননি। গত ১৫ জুলাই ৪টা ৪০ মিনিটে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর মানিকপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মানিকপুর (বাংলাদেশ) গ্রামের স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কুশিয়ারা নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পেয়ে মানিকপুর বিওপিকে অবগত করে। তাৎক্ষনিক মানিকপুর বিওপি কমান্ডারসহ ৬ সদস্যের একটি টহল দল উক্ত স্থানে গিয়ে দেখতে পায় কুশিয়ারা নদীর ভারতীয় অংশে একটি লাশ ভেসে রয়েছে। পরদিন ১৬ জুলাই রাতে বিএসএফ-এর সহযোগিতায় ভারতীয় পুলিশ আব্দুল মালিকের লাশ কুশিয়ারা নদী হতে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ ১৬ বিএসএফ কমান্ড্যান্ট এবং জবাইনপুর বিএসএফ ক্যাম্পকে অবগত করা হয়। এ প্রেক্ষিতে গত ১৯ জুলাই রাত ৮টা ৪০ মিনিটে জকিগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার জকিগঞ্জ আইসিপি’র নিকট কুশিয়ারা নদীতে বিজিবি-বিএসএফ এর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশ (জকিগঞ্জ থানা) কর্তৃক ভারতীয় পুলিশের নিকট থেকে নিহত আব্দুল মালিকের লাশ গ্রহণ করে। ওইদিন দিবাগত রাত ১ ঘটিকার সময় মৌলভীচক শাহী ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আব্দুল মালিকের ভারতে আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তিনি প্রায়ই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যেতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি করিমগঞ্জে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। দুই দিন আগে করিমগঞ্জের কুশিয়ারা নদী থেকে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। পরে করিমগঞ্জে থাকা আব্দুল মালিকের স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন। এরপর বিএসএফ-বিজিবি’র পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুলিশের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মালিক হৃদরোগে আক্রান্ত এবং কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন থাকায় পানিতে থাকা অবস্থায় হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তবে নিহত আব্দুল মালিকের ছোট ভাই আব্দুল মুকিত জানান, আমার বড় ভাইকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে জানতে পারি ভারতীয় পুলিশের জিম্মায় তাঁর লাশ রয়েছে। কিভাবে তিনি মারা গেলেন সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ বিজিবি’র কোম্পানি কমান্ডার ও মানিকপুর বিওপি কমান্ডার সুবেদার হাফিজ উদ্দিন জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী লাশটি উদ্ধারের পর বিজিপির পক্ষ থেকে দফায় দফায় যোগাযোগ করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশটি বাংলাদেশে এনে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, বিএসএফ-বিজিবি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশটি পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। পুলিশ শনিবার রাতে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে।
Leave a Reply