জকিগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ এলাকায় চুরা-ডাকাতি সহ নানা ধরণের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৩ ঘটিকার সময় শরীফগঞ্জ বাজারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। শরীফগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উসমান গণীর সভাপতিত্বে ও তরুণ সংগঠক কাওছার আহমদের পরিচালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকর্মী আহমেদ মুমিন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য আবুল কালাম, বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আছাদ উদ্দিন, ইউপি নূরুল ইসলাম মজনু, ব্যবসায়ী শাহেদ আহমদ, আব্দুল হান্নান, সাহেদ আহমদ ও দেলোয়ার হোসেন দুলু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, “আমরা পুলিশকে সময় দিয়েছি। এবার যদি পরিবর্তন না আসে, তাহলে আমরা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি, ঘেরাওসহ বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।” বক্তারা পুলিশের নিরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধনে আরও বলা হয়, “চোরেরা যদি মনে করে হিন্দু বাড়িতে ডাকাতি করে পার পেয়ে যাবে, তারা ভুল করছে। অপরাধী কোনো ধর্মের না-অপরাধই অপরাধ। হিন্দু-মুসলিম সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।
এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, একের পর এক চুরি-ডাকাতি ঘটলেও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমলশিদ গ্রামের ডা. বিভাকর দেশ্যমুখ ও গোবিন্দ বাবুর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো কুলকিনারা হয়নি। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এই এলাকায় অবৈধভাবে মহিষ আনা ও মাদক পাচারও বেড়েছে, কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
বক্তারা বলেন, “ইয়াবা সেবন ও বিক্রি এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে। মাদকসেবীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, অথচ পুলিশ দেখে না। কেউ প্রতিবাদ করলে নাটকীয়ভাবে একজনকে গ্রেফতার করে, এরপর মামলায় চালান দিয়ে ‘ফাইল ক্লোজ’ করে দেয়।” তারা জানান, এলাকার নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকিতে। অপরাধের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাড়ির সুপারী গাছের সুপারী এখন এদের নিকট থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা।
Leave a Reply