সিলেটের জকিগঞ্জে রঈসুল কুররা ওয়াল মুফাসসিরীন, উস্তাযুল মুহাদ্দিসীন, সুলতানুল আরিফীন হযরত আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ্ (রহ.)-এর ১৮তম ঈসালে সাওয়াব মাহফিল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারী) বাদ ফজর ঐতিহাসিক বালাই হাওরে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০টায় হাজারো এতীমসহ উপস্থিত মুরীদীন-মুহিব্বীনদের নিয়ে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাজার যিয়ারতের মধ্য দিয়ে ফুলতলী ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন বালাই হাওরে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর খতমে কুরআন, খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান, খতমে দালাইলুল খাইরাতের পাশাপাশি স্মৃতিচারণমূলক ও জীবনঘনিষ্ট আলোচনায় অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিবাহিত হয় পুরো দিন। ধর্মীয় আবেগঘন পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল এ মাহফিলে মুরিদীন-মুহিব্বীনের উদ্দেশ্যে তা’লীম-তরবিয়ত পেশ করেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরী উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব ফুলতলী। মাহফিলে তিনি বলেন, অতীতে মুসলমানদের উপর যারা যুলুম করেছিল তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে ইয়াযীদ, এরপর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ক্ষমতা রক্ষার জন্য শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। মানুষের উপর যুলুম করেছে। তারাও মুসলিম ছিল কিন্তু গদি রক্ষার জন্য মানুষের উপর জুলুম হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সাঈদ ইবন যুবায়র (রা.) কে হত্যা করেছে। যিনি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস, ইবন মাসউদ (রা.) প্রমুখ সাহাবীর নিকট থেকে তাকওয়া, তাযকিয়া ও ইলম হাসিল করেছিলেন। তিনি যখন হাজ্জাজ বাহিনীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিলেন তখন ছোট মেয়েকে বলেছিলেন, তোমার মাকে বলো আমার গন্তব্য জান্নাত। তিনি দুআ করেছিলেন, হে আল্লাহ! আমার পর হাজ্জাজ যেন আর কারো উপর জুলুম করতে না পারে। তাঁর এ দুআ কবুল হয়েছিল। পনেরো দিনের মধ্যে হাজ্জাজ মৃত্যুবরণ করে। তিনি এ সময় দুআ করে বলেন, হে আল্লাহ! আমরা যেন কারো উপর জুলুম না করি, কেউ যেন আমাদের উপর জুলুম করার সুযোগ না পায়। প্রিয় মাতৃভূমিতে আমরা যেন হানাহানিতে লিপ্ত না হই।
তিনি আরো বলেন, নবী করীম (সা.) এর প্রতি আল্লাহ পাক সবচেয়ে বড় যে নেয়ামত দান করেছিলেন তা হলো কুরআন শরীফ। আল্লাহ হযরত ফুলতলী ছাহেব (রহ.)-এর মাধ্যমে আমাদের এ নেয়ামতের হকদার বানিয়েছেন। কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত নির্ভরযোগ্য সনদে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। যারা বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছেন আপনারা এ খিদমতে নিযুক্ত থাকবেন। ইনশাআল্লাহ, এ খিদমাত আমাদের হাওযে কাওছারে পৌঁছে দিবে।
তিনি বলেন, হিযবুল বাহার একটি মকবুল ওযীফা। শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী র. বলেছেন, হিযবুল বাহার এমন দুআ, যা সব বিপদ আপদ থেকে হেফাজত করে। শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী বলেছেন-যে তাকে হিযবুল বাহারের বিভিন্ন বিষয়ের রহস্য ইলহাম করা হয়েছে- যা তিনি হাওয়ামী নামক কিতাবে একত্রিত করেছেন। দুনিয়ার উদ্দেশ্য না করে নিয়ম মেনে হিযবুল বাহার নিয়মিত পড়লে উপকৃত হবেন। জাহিরী-বাতিনী দুশমন থেকে রক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। যিকর-আযকারের ক্ষেত্রে সিলসিলার পদ্ধতির বাইরে অন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করবেন না। তাহলে সম্পর্ক কর্তিত হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, মা বাবার নির্দেশে বিধবা, এতীম-অনাথের নয়নের জল মোছার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, জানিনা কতটুকু সফল হয়েছি। বহু এতীমকে নিয়ে তাদের পিতার কবর যিয়ারত করেছি। তিনি আল্লামা ইকবালের একটি পংক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার ক্ষেত্রে এতীমের দুআ অত্যন্ত কার্যকরী। হাশরের দিনে এ দুআ বড় কাজে আসবে। ইনশাআল্লাহ, এর ওসীলায় আল্লাহ প্রিয়নবী সা. এর সাথে মিলিয়ে দিবেন। যাদের মা-বাবা আছেন তাদের খেদমত করবেন। যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের দুআয় স্মরণ রাখবেন, যিয়ারত করবেন। মা-বাবার কবর যিয়ারতে যে অনুভূতি তৈরি হয় অন্য কিছুতে তা পাওয়া যায় না। আসুন, মা বাবার খেদমত করি, এতীম-অনাথের খেদমতের দিকে ধাবিত হই, হিংসা বিদ্বেষমুক্ত মায়ার পরিবেশ গড়ে তুলি।
ওলী আল্লাহদের কাশফ সম্পর্কে তিনি বলেন, গোলাম মুহিউদ্দীন চিশতী (রহ.) আল্লামা ফুলতলী (রহ.)-এর রামপুর আলিয়ার উস্তায ছিলেন। তাঁর নিকট বায়আত হওয়ার জন্য তিনি ফুলতলী ছাহেবকে বলেছিলেন। ফুলতলী ছাহেব তার পীর ও মুরশিদের বদরপুরী (রহ.)-এর ইজাযত নেওয়ার কথা বলেন। ইতিমধ্যে বদরপুরী (রহ.) চিঠি পাঠান। চিঠি পৌঁছার আগেই গোলাম মহিউদ্দিন (রহ.) বলেন, ইজাযত মিলে গেছে। এটা ছিল কাশফ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহাযোগী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী ও ফুলতলী কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নজমুল হুদা খান, মাসিক পরওয়ানা সম্পাদক মাওলানা রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী ও জার্মানির এরফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মাওলানা মারজান আহমদ চৌধুরীর যৌথ পরিচালনায় মাহফিলে সম্মানিত অতিথি ছিলেন রাসূলে পাক (সা.) এর ৩৯তম বংশধর, মদীনা শরীফের প্রখ্যাত বুযুর্গ সায়্যিদ আল হাবীব আসিম আদী ইয়াহইয়া ও জেদ্দার প্রখ্যাত বুযুর্গ সায়্যিদ আল হাবীব ওমর আহমদ আল হাবাশী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নূরুল হক, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হযরত আল্লামা নজমুদ্দীন চৌধুরী, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, সিলেট সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ’র অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল হক প্রমুখ।
মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শিহাব উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, মুফতী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা কমরুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা এ.কে.এম মনোওর আলী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি ও সিলেট-৫ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং সিলেট-৫ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, বিএনপি থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের বিএনপির এমপি পদপ্রার্থী হাজী মো. মুজিব, মৌলভীবাজার-১ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা বেলাল আহমদ, মৌলভীবাজার-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা কাজী ফজলুল হক খান সাহেদ, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা নুরে আলম হামিদী, ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি হাফিয মাওলানা ফখরুদ্দীন চৌধুরী, আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের প্রেসিডেন্ট মাওলানা নজরুল ইসলাম, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী, জালালপুর জালালিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জ. উ.ম আব্দুল মুনঈম, ঢাকা মাহমুদা খাতুন মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতী মো. বদিউল আলম সরকার, ঢাকা মোহাম্মদপুর গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতী মুহাম্মদ এজহারুল হক, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুরুল করিম মহসিন, মহাখালী কামিল মাদরাসা মুহাদ্দিস মাওলানা মাহবুবুর রহমান, বুরাইয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী, রাখালগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শেহাব উদ্দিন আলীপুরী, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল লতিফ, হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসা আরবি প্রভাষক মাওলানা জুয়েল আহমদ লতিফি প্রমুখ।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ইকড়ছই আলিম মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ছমির উদ্দিন, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রহীম, চান্দাইরপাড়া সুন্নিয়া হাফিজিয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ছরওয়ারে জাহান, সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর নুমান, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুল ইসলাম, হলিয়ারপাড়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, লতিফি হ্যান্ডস এর জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা গুফরান আহমদ চৌধুরী, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদ হাসান চৌধুরী রায়হান, সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ছালেহ আহমদ বেতকোণী, জকিগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসার সাবেক সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোশাহিদ আহমদ কামালী, সোবহানীঘাট হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবূ ছালেহ মুহাম্মদ কুতবুল আলম, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া, আল হাবীব লতিফিয়া কমপ্লেক্স এর চেয়ারম্যান মাওলানা মোস্তফা হাসান চৌধুরী গিলমান, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি কবির আহমদ, সাধারণ সম্পাক এস এম মনোয়ার হোসেন, ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আজিজুর রহমান তালুকদার, উজানডিহির পীর ছাহেবের ছোট ভাই মাওলানা সৈয়দ ফয়েজ আহমদ আল মাদানী, মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমদ, তালামীযে ইসলামিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আলমগীর হোসেন, মাওলানা আজির উদ্দিন পাশা, হাফিয মাওলানা নজীর আহমদ হেলাল, মাওলানা মাহবুবুর রহমান ফরহাদ, সাবেক সহ সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, মাওলানা হুমায়ূনুর রহমান লেখন, মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স এর সহ-সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মিল আলী শরীফ, লতিফিয়া দারুল কিরাত সমিতি, উত্তর পূর্বাঞ্চল, আসাম’র সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার উদ্দিন, উজানডিহির ছাহেবজাদা মাওলানা সৈয়দ মুরাদ আহমদ আল মাদানী প্রমুখ।
Leave a Reply