জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং কাজলসার ইউনিয়নের অন্তর্গত কামালপুর (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমানা দেওয়াল না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। এই বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। বিদ্যালয়ের ঠিক পাশ ঘেঁষে গোটারগ্রাম-টু-কামালপুর পাকা সড়কটি হওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সময় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচলের কারণে ছোট শিশুদের হঠাৎ রাস্তায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতীতে এই সড়কে একাধিকবার ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউনুছ আলী বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়টি সড়কের খুব কাছে হওয়ায় সীমানা দেওয়াল না থাকায় এখন মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ছোট শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে-যায়, খেলাধুলা করে। কোনো বাধা না থাকায় তারা কখন সড়কে চলে যাবে-এটা বলা যায় না। এছাড়া বাইরের লোকজন, গবাদিপশু ও যানবাহন মাঠে ঢুকে পড়ায় পড়ালেখার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সীমানা দেওয়াল নির্মাণ জরুরি।”
এ বিষয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার বাবা মোঃ সোহেল আহমদ বলেন, “সড়কটা খুব ব্যস্ত। বাচ্চারা খেলার সময় বা ছুটির সময় হঠাৎ রাস্তায় চলে যাওয়ার ভয় থাকে। প্রতিদিনই দুশ্চিন্তায় থাকি। দেয়াল থাকলে আমরা অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারতাম।” অপর অভিভাবক মেহজাবিন বিনতে রুমেলের বাবা রুমেল আহমেদ বলেন, “স্কুলটি বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্র আর ভোটের সময় ভোটকেন্দ্র। তখন মানুষের ভিড় বাড়ে, যানবাহনের আসা-যাওয়া বেশি হয়। সীমানা দেওয়াল না থাকায় পরিস্থিতি অনিরাপদ হয়ে ওঠে। দেওয়াল হলে শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।” আব্দুল আহাদ নামের অপর এক অভিভাবক বলেন, “পার্শ্ববর্তী চৌধুরী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কামালপুর (ক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয় হলেও ইতোমধ্যে এই দু’টি বিদ্যালয়ে সীমানা দেওয়াল নির্মাণ করা হয়ে গেছে। অথচ আমাদের বিদ্যালয়টি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারেক বলেন, “ আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্র হিসেবে এই বিদ্যালয়ে দ্রুত সীমানা দেওয়াল নির্মাণের জন্য আমি শিগগিরই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবো। ”
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং ভোটকেন্দ্র-তিনটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করে সীমানা দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, “আমরা বিষয়টি নোট করে রাখছি। অচিরেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে সীমানা দেওয়াল নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
স্থানীয় শিক্ষক-অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের দাবি-কামালপুর (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত সীমানা দেওয়াল নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকি কমবে এবং একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
Leave a Reply