জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনপ্রিয় ও আলোচিত ব্যক্তি ফাহিম আল্ চৌধুরী ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফাহিম আল্ চৌধুরী নিজ জন্মভূমির মানুষের জন্য দারুণ এক সুখবর দিয়েছেন। রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে নিজের ব্যক্তিগত ভেরিফাই ফেসবুক একাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষকে এমন সু-খবর দেন। তাঁর এমন একটি ফেসবুক পোস্টে দীর্ঘদিন থেকে যোগাযোগ ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে থাকা জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষকে বেশ উৎফুল্ল দেখা গেছে।
জানা যায়, বিগত প্রায় এক যুগ থেকে সংস্কার করা হয়নি জকিগঞ্জ-শেওলা জিরো পয়েন্ট সড়ক ও কানাইঘাটের গাজী বুরহান উদ্দিন সড়ক। দীর্ঘদিন থেকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খানাখন্দে ভরে গেছে সড়ক দু’টি। দুই উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দু’টি অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও মেরামতের সরকারি দৃশ্যমান নেই কোন উদ্যোগ। এনিয়ে সিলেটের সীমান্তবর্তী দুই উপজেলার মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। সংস্কারের দাবীতে নানাভাবে এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দাবি জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ দৃশ্যমান কিছু দেখা যাচ্ছে না। জকিগঞ্জ-কানাইঘাটবাসীর এমন একটি চরম ক্লান্তিলগ্নে একটি আশার বাণী দিয়েছেন জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের বৈপ্লবিক নেতা খ্যাত বিশিষ্ট সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী ও শিল্পপতি ফাহিম আল্ চৌধুরী। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে যে আশার বাণী শুনিয়েছেন তা হুবহু তুলে ধরছি-
ইনশাআল্লাহ, সর্বশক্তিমান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এখনো সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন কানাইঘাটের বুরহান উদ্দিন সড়ক এবং জকিগঞ্জ জিরো পয়েন্ট সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে আসে। ইতোমধ্যেই আমি সিনিয়র সচিবসহ দায়িত্বশীল মহলের সাথে আলোচনা করেছি এবং আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। তাঁরা তাদের সাধ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন।
তবে, আমরা একটি অস্থিতিশীল সরকারের মধ্যে বসবাস করছি। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সময়ক্ষেপণ হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যদি বিলম্ব আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে আমি দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইনশাআল্লাহ, এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প আমি নিজ উদ্যোগে, নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করব, শুধুমাত্র আমার এলাকার মানুষের কল্যাণের জন্য।
এই সড়ক দুটি মানুষের জীবনের স্পন্দন, ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্বাসপ্রশ্বাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার সহজগম্যতার প্রাণপ্রবাহ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথে চলাচল করেন, তাঁদের ভোগান্তি, তাঁদের কষ্ট আমি অন্তরের গভীরে অনুভব করি।
রাস্তাঘাট নির্মাণ বা উন্নয়নে অবদান রাখা আসলে একটি চলমান দান (সদকায়ে জারিয়া)। কারণ যতদিন মানুষ এই পথে চলাফেরা করবে, নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাবে, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা বা জীবনের প্রয়োজনীয় কাজে এই সড়ক ব্যবহার করবে, ততদিন আল্লাহর দরবারে-এর সওয়াব পৌঁছতে থাকবে।
এদিকে মানবিক ব্যক্তিত্ব ফাহিম আল্ চৌধুরী’র এমন একটি সিদ্ধান্তে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের সীমাহীন দূর্ভোগ ও কষ্টের পরিসমাপ্তি হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। অনেকে আবার ফাহিম আল্ চৌধুরী’র এমন মহতি সিদ্ধান্তকে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলেও জানিয়েছেন।
Leave a Reply