আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) সংসদীয় আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসানকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি ১০ দলের সংবাদ সম্মেলন শেষে চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা যায়, হাফিজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ অক্টোবর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলাধীন ২নং বীরশ্রী ইউনিয়নের মাজরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ এবং মাতা মোছাম্মৎ আছারুন বিবি। বর্তমানে তিনি সিলেটের জকিগঞ্জস্থ লামারগ্রামে অবস্থিত জামেয়া ইসলামিয়া দারুসুন্নাহ মোহাম্মদিয়া-এর মুফতি ও শায়খুল হাদিস এবং জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব।
সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের উপদেষ্টা মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড) এর মজলিসে শূরা ও আমেলার সদস্য এবং সিলেট জেলা বেফাকের সেক্রেটারি। জকিগঞ্জ কওমি মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদেরও তিনি সেক্রেটারি। জাতীয় ইমাম সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। জাতীয় ইমাম সমিতি, জকিগঞ্জ সভাপতি। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি জকিগঞ্জ, সিলেট-এর তিনি সদস্য। উপজেলা চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটি জকিগঞ্জ সিলেট-এর সদস্য তিনি।
মুফতি আবুল হাসান ইসলামি বক্তা বা স্কলার হিসেবে দেশ ও বিদেশে তিনি জনপ্রিয়, পরিচিত ও সমাদৃত। ইসলামি বক্তা হিসেবে ভারত ও সৌদি আরব অংশগ্রহণ করেছেন।
তাঁর অনেক গবেষণাধর্মী লেখা স্থানীয় দৈনিক, মাসিক, ম্যাগাজিন ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি পবিত্র হজব্রত পালন ও হজগাইড হিসেবে নয়বার এবং ওমরা পালনে তিনবার পবিত্র মক্কা-মদিনা গমন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র মজলিসকে পছন্দ করতেন। কর্মজীবনে এসে খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের উপদেষ্টা হিসাবে রয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে খুব একটা সক্রিয় না হলেও তিনি শিক্ষকতা ও ইমামতির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছেন। জকিগঞ্জের নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কর্মতৎপরতা ছিল চোঁখে পড়ার মতো। দ্রুত ডাইক মেরামতের লক্ষে তিনি সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। জনদাবী আদায় পরিষদ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ইসলাম, মুসলমান ও উম্মাহর স্বার্থে এবং এলাকার উন্নয়নে সকল দল মতের মানুষকে নিয়ে কাজ করতে সব সময় আগ্রহী।
Leave a Reply