1. admin@zakiganjsangbad.com : admin :
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জকিগঞ্জের শাহগলীতে মানববন্ধন ঈদে জমে উঠেছে জকিগঞ্জের জান্নাত এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক জকিগঞ্জে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন মিলন আর নেই জকিগঞ্জে দুই মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত জকিগঞ্জে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জনকল্যাণ সোসাইটি, জকিগঞ্জ-এর ঈদ উপহার বিতরণ জকিগঞ্জে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী এমপি’র ঈদ উপহার বিতরণ জকিগঞ্জে মইলাইট বিল নিয়ে দুই পক্ষ মূখোমুখি জাতিসংঘের ইয়ুথ ফোরামে যাচ্ছেন জকিগঞ্জের হাবিবুর রহমান মাসরুর জকিগঞ্জে রাস্তা নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী এমপি জকিগঞ্জে শতাধিক গরীব ও দুস্থদের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশের ইফতার সামগ্রী বিতরণ

জকিগঞ্জে ন্যাশনাল সার্ভিসের আড়াই কোটি টাকা নয়ছয়: লাপাত্তা যুব কর্মকর্তা আজহার!

সংবাদ ডেক্স:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ১০৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জকিগঞ্জে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে চালু করা ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির’ আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। বেকারদের না দিয়ে টাকাগুলো যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা টাকা ‘আত্মসাৎ’ করেছেন। এ-সংক্রান্ত প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, সিলেটের জকিগঞ্জের স্থানীয় অ্যাকাউন্টস অফিস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘সংঘবদ্ধ একটি চক্র’ এ কাজ করেছে। এরই মধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
জানা যায়, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় গেল অর্থবছরে ১১টি উপজেলায় টাকা যাওয়ার কথা। এগুলো হলো রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলা, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা, যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা, ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলা, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলা, পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলা, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা। এর বাইরে অন্য কোন উপজেলায় টাকা যাওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ২ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা গেছে। সেই টাকা উঠিয়ে খরচও হয়েছে বলে কর্মসূচি পরিচালক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিজির কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন।
সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির অর্থ ছাড়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন নিতে হয়। লাগে মন্ত্রণালয়ের হিসাব বিভাগের অনুমোদন। যেসব উপজেলায় টাকা যায়, সেখানেও অধিপ্তরের মহাপরিচালকের সম্মতির পরই শুধু পৌঁছে। একাধিক ধাপে ছাঁকনির ব্যবস্থা থাকার পরও এত বড় অঙ্কের টাকা কিভাবে বেহাত হলো তার সদুত্তর মিলছে না। সবাই বলছেন, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আজহারুল ইসলাম খান সংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ছাড়া এখন নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা ৪ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি করেছি, কমিটির প্রতিবেদন পেলে বুঝতে পারবো টাকা কিভাবে গেল।’
যুব উন্নয়নের পরিচালক (প্রসাশন) আবদুল হামিদ খান বলেন, ‘জাকিগঞ্জে এমন একটা বরাদ্দ আইবাসে শো করছে তার প্রিন্টেড কপিটা আমাদের অডিট টিম নিয়ে এসে দেখাইছে। অডিট টিমটা আমাদের দেখানোর পর আমারা জানতে পারি। আমরা আশ্চর্য হয়েছি। আমরা একটা কমিটি গঠন করেছি। আমাদের কমিটি জকিগঞ্জে গেছে সেখানে কোন বিল ভাউচার পাওয়া যায় নাই।’
‘এখন প্রশ্ন হলো আইবাসে আসলো কি করে সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি’ বলেন তিনি।
আইবাস বা ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম হলো বাংলাদেশ সরকারের ‘সমন্বিত বাজেট এবং হিসাব রক্ষণ ব্যবস্থা’। এটি একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক সফটওয়্যার, যেটির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের বাজেট প্রণয়ন, বাজেট বাস্তবায়ন হিসাব সমন্বয় ইত্যাদি আর্থিক কর্মকা- সম্পন্ন করে থাকে।
সিলেটের জকিগঞ্জে অপ্রত্যাশীতভাবে টাকা যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে অডিটে। বিষয়টি নজরে আসার পর ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সেলের পরিচালক খোন্দকার রুহুল আমীন এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন যুব উন্নয়ন অধিপ্তরে মহাপরিচালককে দেন। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আজহারুল কবীর কারসাজি করে এই টাকা বেহাত করেছেন। উপজেলার বিপরীতে কল্যাণ অনুদান খাতে আইবাস-এ ২ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা এন্ট্রি দেয়ার পাশাপাশি তা ব্যয় করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কল্যাণ অনুদান খাতে আইবাস++ এ ২ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা এন্ট্রি দেয়া, উত্তোলন ও ব্যয় করা ‘রীতিমতো আর্থিক বিধিবিধান পরিপন্থী, গর্হিত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ’। এই ‘সংঘবদ্ধ চক্রে’ যারাই জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজহারুল কবীরের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন থেকে তিনির কর্মস্থল জকিগঞ্জে অফিস করেন নি। তার অনুপস্থিতির বিষয়ে বিগত ২০ সেপ্টেম্বর জকিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.কে.এম ফয়সাল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেট এর উপ পরিচালকে লিখিত ভাবে অবহিত করেছেন। স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে তিনি দীর্ঘদিন থেকে অফিস করেন নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। এ কারণে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
জকিগঞ্জ সংবাদ-এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না
প্রতিষ্ঠাতা: রহমত আলী হেলালী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট