সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন উদ্যোগে ও ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের সহযোগিতায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাসব্যাপী ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প চলমান রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জকিগঞ্জ উপজেলার পরচকস্থ মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা কার্যক্রম শুরু হলে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সেদিন ওই চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে দুই সহস্রাধিক চক্ষু রোগীকে বিভিন্ন প্রকারে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় এবং দেড় শতাধিক মানুষকে অপারেশন মনোনীত করা হয়।
শনিবার (১৬ আগস্ট) জকিগঞ্জ উপজেলার বাবুর বাজারস্থ জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে একইভাবে মানুষের উপচে পড় ভীড় লক্ষ করা যায়। এই ক্যাম্পে অনুরূপভাবে সহস্রাধিক চক্ষু রোগী বিনামুল্যে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং শতাধিক রোগীকে অপারেশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
বুধবার (২০ আগস্ট) কানাইঘাট উপজেলার বীরদল অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহস্রাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে জড়ো হন। সেখানেও মানুষের উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। এ কেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ রোগীকে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান করা হয় এবং একশত লোককে ফ্রি অপারেশনের জন্য মনোনীত করা হয়।
শনিবার (২৩ আগস্ট) জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়ন অফিস সংলগ্ন হাফিজ মজুমদার বিদ্যানিকেতনে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। সেখানে গিয়েও দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের শতশত নারী-পুরুষ বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে চিকিৎসা ক্যাম্পে ভীড় জমিয়েছেন। বিকাল পর্যন্ত এ ক্যাম্পে ১ হাজার ৮০০ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় এবং ১ হাজার ২০০ রোগীকে ঔষধ ও ৩৮০ জন রোগীকে চশমা প্রদান করা হয়।
অপরদিকে আগামী শনিবার (৩০ আগস্ট) কানাইঘাট উপজেলার বড়দেশ শাহজালাল ছাত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসা, শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) কানাইঘাট উপজেলার মুলাগুল উচ্চা বিদ্যালয়, সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) কানাইঘাট উপজেলার চতুল জামিয়া আসআদিয়া দারুল মাআরিফ চতুল হারাতৈল মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা ও শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জকিগঞ্জ উপজেলার ঈদগাহ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি চক্ষুসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম সেলিম চৌধুরী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গ্রামীণ জনপদের গরীব ও অসহায় সাধারণ মানুষের জন্য ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের সহযোগিতায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এসব বিনামুল্যে চক্ষুসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করেছে। এসব ক্যাম্প পরিচালনা করতে গিয়ে দেখলাম, বহু মানুষ চোখের নানা ধরনের দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু অনেকেই অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তাই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের এমন মানবিক উদ্যোগ সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। এ আয়োজনে সব শ্রেণির মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামীতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলাসহ আশপাশ এলাকার গরীব-দুঃস্থসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রি চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করছেন। ক্যাম্পে আগত রোগীদের ফ্রি চোখের পরীক্ষা, অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরামর্শ, চিকিৎসা, প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রি চশমা ও ওষুধ প্রদান এবং নির্বাচিত রোগীদের ফ্রি ক্যাটারাক্ট (ছানি) অপারেশনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও ছানিজনিত কারণে যে সকল রোগী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাদের চোখের ছানি অপারেশন এবং (আইএলও) লেন্স স্থাপনের লক্ষ্যে ছানি রোগী শনাক্তকরণ করা হয়। রোগী শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে রোগীর প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা আনোয়ারা খাতুন বলেন, চোখে সমস্যা ছিল, কিন্তু টাকা না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারিনি। আজ ফ্রি ক্যাম্পে এসে ডাক্তার দেখালাম, অপারেশনের সুযোগও পেলাম। আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন। এমন উদ্যোগ গরিবদের জন্য আশীর্বাদ। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চলমান থাকুক এ প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
চিকিৎসা নিতে আসা বয়োবৃদ্ধ পংকি বিবি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনেক নাম দাম ও প্রশংসা শোনেছি। আজ বাস্তব একটা প্রমাণ পেলাম যে, জিয়াউর রহমান সাহেব একজন ভালো মানুষ ছিলেন। ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের সহযোগিতায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগ নেয়ায় আজ বিনা টাকায় নিজের চোখ দেখিয়ে ঔষধ নিতে পারলাম। আল্লাহ তাদের ভালো করুক।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে চোঁখের রোগ একটি সাধারণ সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা জটিলতা তৈরি হলেও দারিদ্র্য, সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ফাহিম আল্ চৌধুরী ট্রাস্টের সহযোগিতায় ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে মাসব্যাপী ফ্রি চক্ষু সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে।
এই চক্ষু সেবা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণের মাঝে দৃষ্টিশক্তির উন্নয়ন, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা।
চিকিৎসা কেন্দ্রে ৪০ বছরের বেশি বয়সী দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পাশাপাশি নারী, বিধবা, প্রবীণ এবং কৃষি ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট এমন ব্যক্তিদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যারা দৈনন্দিন কাজে চোখের ওপর নির্ভরশীল।
চিকিৎসা কেন্দ্রে বিনা মূল্যে চোঁখের পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা বিতরণ, চোখের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য ফ্রি অপারেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী ও শিল্পপতি ফাহিম আল্ চৌধুরী জানিয়েছেন-এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।
Leave a Reply