শুরু দিকে আলোচনা-সমালোচনা দু’টিই ছিল ফাহিম আল্ চৌধুরীকে নিয়ে। ভালো আলোচনার বাহিরে কতিপয় লোক সমালোচনা করতো তাকে নিয়ে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সব সমালোচকদের মূখে কুলুপ দিয়ে স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠছেন কর্মবীর ফাহিম আল্ চৌধুরী। সিলেট তথা দেশের মানুষের নিকট এখন জনপ্রিয় একটি নাম ফাহিম আল্ চৌধুরী।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ১নং বারহাল ইউনিয়নের শাহবাগ মহিদপুর মসজিদ ওয়ালা বাড়ি’র মরহুম মাওলানা আব্দুল মুছাব্বির চৌধুরীর সন্তান হলেন ফাহিম আল্ চৌধুরী। অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ পরিবারের সন্তান ফাহিম আল্ চৌধুরী সেই ছোটকাল থেকে বাবা-মা ভক্ত এবং একজন মানবিক মানুষ ছিলেন। ছোট বেলা থেকে পরিবারের সাথে যুক্তরাজ্যে থাকায় তিনি যেটুকু আয় রোজগার করতেন তার একটা বড় অংশ দান সদকা করতেন। বিদেশের আয়েশী জীবনে থেকেও স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা তার প্রতিনিয়ত। তাইতো শত প্রতিকূলতার মাঝেও মা, মাটি ও দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনে পিছপা হননি আবেগ তাড়িত এই মানুষটি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে দেশে-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন ফাহিম আল চৌধুরী। প্রবাসে থেকেও ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বিবেকবান এই মানুষটি। জুলাই বিপ্লবে দেশের ক্রান্তিলগ্নে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের পতাকা উঁচু করে তুলে ধরে বিশ্ববাসীকে জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সময়ের সাহসী সৈনিক ফাহিম আল চৌধুরী। বাংলার ইতিহাসে যতদিন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্মৃতি কথা, ততদিন সাধারণ মানুষের মনের মনি কোঠায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন জুলাই আন্দোলনের প্রবাসী সৈনিক ফাহিম আল চৌধুরী কথা। ছাত্র আন্দোলনে প্রেরণা জোগাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ স্বরব ছিলেন ফাহিম।
ছাত্র আন্দোলনকে গতিশীল ও চলমান রাখার জন্য আন্দোলনকারীদের মাঝে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানসহ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি। সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রচারসহ ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন ফাহিম আলম চৌধুরী। ছাত্র ও অভিভাবকদের ঢাকায় এনে আন্দোলনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে নিজ উদ্যোগে বাস, ট্রাকহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্যবস্থা করেছিলেন মানবিক মনের এই মানুষটি। এছাড়া অসংখ্য মানুষের খাবার এবং থাকার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। ছাত্র জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে অর্থাৎ ৫ই আগস্ট ফাহিম আল চৌধুরীর স্বেচ্ছাসেবক দল দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে একটি ডকুমেন্টারি করা হয় যেখানে ছাত্রদের লড়াই এবং ফাহিম আল চৌধুরীর ভূমিকা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। ৫ই আগস্টকে কেন্দ্র করে একটি গান প্রকাশিত হয় যা কিনা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ২০ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করে।
দেশ মাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার এই মানুষটির সমাজ সেবায়ও ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করার মতো।
জানা যায়, ফাহিম আল্ চৌধুরী ২০০২ সাল থেকে তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গরীব অসহায় মানুষকে অনেকটা নীরবে নিভৃতে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজ নামে ফাহিম আল্ চৌধুরী ট্রাস্ট গঠন করে শুধু জকিগঞ্জ-কানাইঘাট নয়, পুরো দেশ তথা বিশ্বের সকল নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাঁশে দাঁড়িয়ে একাধিক নজির সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে ফাহিম আল্ চৌধুরী ট্রাস্টের মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা, মসজিদ-মাদ্রাসা সংস্কার, সেতু ও রাস্তা নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায়দের মাঝে সাহায্য করে আসছে প্রতিনিয়ত। ২০০২ সাল থেকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে যা এখন সিলেট অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম মানবিক প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। একজন সফল উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী হিসেবেও তিনি যথেষ্ট পরিচিত। তিনি একজন রিয়েল এস্টেট আইকন যিনি যুক্তরাজ্য এব সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক ও আবাসিক সম্পত্তির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ফিহা ক্যাপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তার এই প্রতিষ্ঠানটি সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বনির্ভর হতে সহায়তা করে আসছে।
ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্ম নেয়া ফাহিম আল চৌধুরী ছোটবেলাতেই যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তিনি বিশ্বাস করেন, মানবতার সেবা করাই আল্লাহর পথে চলার অন্যতম উপায়। তিনি সবসময়ই বলেন, “আমি যখন মারা যাবো, তখন কেউ যেন মনে না করে আমি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলাম বরং মানুষ যেন বলে আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, আমি অসহায়দের মুখে হাসি ফুটিয়েছি। ফাহিম আল চৌধুরী শুধু একজন সফল ব্যক্তিত্ব নন তিনি একজন সংগ্রামী নেতা, তিনি মানবতার ফেরিওয়ালা। তাঁর স্বপ্ন-একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে ক্ষমতা নয়, মানবতাই থাকবে সবার ওপরে।
কোন ক্ষমতা কিংবা নেতা হয়ে নয়, সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করছেন ফাহিম আল্ চৌধুরী। সে কারণে দিন দিন সাধারণ মানুষের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। সম্প্রতি সিলেটের একটি ফুলবিক্রেতা শিশুর দায়িত্ব নিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। ফূলকন্যা খ্যাত শিশু ফাইজাকে নিজের সন্তানের মতো করে স্বর্ণের চেইন, নগদ অর্থ ও কাপড় চোপড় সহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কিনে দিয়ে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। যার ফলে ফাহিম আল্ চৌধুরী এখন সিলেটবাসীর নিকট জনপ্রিয় একটি নাম।
Leave a Reply