সিলেটের জকিগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ সর্বস্ব হারিয়ে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অন্যের ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন রুসনা বেগম। তাঁর দুরবস্থার খবর পেয়ে সরকারি সহায়তা দিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। তাঁকে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্ধকৃত টিন, নগদ টাকা ও এক প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘর নির্মাণে এক বান টিন কেনার জন্য ৮ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম এলাকার নওয়াগ্রামের পীরকোণায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে রুসনা বেগমের ঘর, আসবাবপত্র, ধান-চাল, নগদ টাকা ও কাপড়চোপড় পুড়ে যায়। বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি রহমত আলী হেলালীর মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রুসনা বেগমকে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দ। সেখানে সরকারি সহায়তা হিসেবে তাঁকে এক বান টিন, নগদ ৩ হাজার টাকা ও এক প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়। এ সময় ইউএনও অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে দেশি-প্রবাসী বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
জানা যায়, রুসনা বেগমের স্বামী ডালু মিয়া অসুস্থ। তাঁদের কোনো ছেলে সন্তান নেই। অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটানো পরিবারটিকে ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন স্মাইলেজ একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছিল। আগুনে সেই ঘরটিও পুড়ে যাওয়ায় অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অন্যের বারান্দায় থাকতে হচ্ছে রুসনা বেগমকে।
এদিকে, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান রুসনা বেগমকে এক বান টিন কেনার জন্য নগদ ৮ হাজার টাকা সহায়তা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোশাররফ হোসেন, জকিগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি রহমত আলী হেলালী, কাজলসার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য চুনু মিয়া ও স্থানীয় খেলাফত মজলিস নেতা আবু জাফর মো. সেলিম।
Leave a Reply