কানাইঘাটে কৃষি জমিতে ছিটানো ‘কীটনাশক’ খেয়ে ৭টি হাঁস মারা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মোঃ সাইদুর রহমান (৩৫) নামের অপর এক চাচাতো ভাই খুন হয়েছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ভোর ৫ ঘটিকার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত সাইদুর রহমান কানাইঘাট উপজেলার ৩নং দিঘিরপার পূর্ব ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত লামা শাহপুর গ্রামের মৃত কুতুব আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের অপর দুই ভাই মোঃ আব্দুর রহমান (৩৩) ও মোঃ ফরিদুর রহমান (৩০) ঘাতকের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের লোকজন জানান, আনুমানিক ১৫/১৬ দিন পূর্বে নিহত সাইদুর রহমানের চাচাতো ভাই ইমরান আহমদ কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ির পাশের কৃষি জমিতে ‘কীটনাশক’ ছিটিয়ে দেন। এতে সাইদুর রহমানের পরিবারের দেশী প্রজাতির ৭টি হাঁস ওই কৃষি জমিতে গিয়ে খাবার খেয়ে মারা যায় এবং আরও ৩টি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নিহত সাইদুর রহমানের ভাই ফরিদুর রহমান স্থানীয় ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিনসহ আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীর নিকট বিচারপ্রার্থী হন। কিন্তু ইমরান আহমদ কোন ধরণের সালিশ বিচার মানেন নি। শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হলে মুসল্লিরা উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেন। বাড়িতে যাওয়ার পথে ঘাতক ইমরানের মা এসে নিহত সাইদুর রহমানের ভাইদের সাথে তর্কাতর্কি শুরু করলে পুনরায় কিছুটা হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এ সময় ইমরান একটি ধারালো ছুরি নিয়ে এসে প্রথমে সাইদুর রহমানকে একাধিক ছুরিকাঘাত করে পরে বাকি দুই ভাই ফরিদ ও আব্দুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে চলে যায়। তিন ভাইকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে যাওয়ার পর ঘাতক ইমরানের বাবা রকিব আলী নিজের হাতে থাকা লাটি দিয়ে সাইদুর, আব্দুর রহমান ও ফরিদকে বেধম মারপিট করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের তিন ভাইকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে শনিবার ভোরে সাইদুর রহমান মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কানাইঘাট থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইমরান আহমদকে শনিবার দুপুরে সিলেট থেকে এবং তার পিতা রকিব আলীকে শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল আউয়াল জানান, ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত ইমরান ও তার বাবাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে।
Leave a Reply