1. admin@zakiganjsangbad.com : admin :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেট-৫ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান জকিগঞ্জে লক্ষাধিক মানুষের অংশ গ্রহণে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)-এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিল সম্পন্ন জকিগঞ্জে ইউএনওর বৈঠক ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে চেয়ারম্যানকে আটকে মব সৃষ্টি: এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছাত্র অধিকার পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হলেন জকিগঞ্জের তানিম জকিগঞ্জের বারহাল ডিগ্রি কলেজে নির্মাণাধীন মসজিদে ফয়ছল চৌধুরী ট্রাস্টের অনুদান প্রদান জকিগঞ্জে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির শোকসভায় দোয়া করলেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক শুভ ইংরেজী নববর্ষ: আঁধার পেরিয়ে আলোর প্রত্যাশা সিলেট জুড়ে আলোচিত কে এই ফাহিম আল্ চৌধুরী? সিলেট-৫ আসন: ভোটের মাঠে বৈধ ৫ প্রার্থী, বাছাইয়ে বাদ ১ জন বিএনপি থেকে বহিস্কার এমপি প্রার্থী চাকসু মামুন

জকিগঞ্জে ইউএনওর বৈঠক ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে চেয়ারম্যানকে আটকে মব সৃষ্টি: এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

আহমদুল হক চৌধুরী বেলাল
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

জকিগঞ্জে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদ জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
আবদুস শহীদের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, পুলিশ ১৫১ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছিল। এই ধারায় পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী জাফর আহমদসহ কয়েকজন তরুণ-যুবক হেনস্তা করেন এবং আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর মানিকপুর ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদে জড়ো হন। তাঁরা জাফর আহমদসহ কয়েকজনকে সামনে পেয়ে ধাওয়া দিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় মবের নেতৃত্ব দেওয়া জাফর আহমদের ওপর মারধরের ঘটনাও ঘটে। সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ইউএনও দফায় দফায় বৈঠক করেন।
বৈঠক চলাকালীন ও এর আগে ধারণ করা একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও, পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সামনেই জাফর আহমদ আব্দুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা ও ‘ডেভিল’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকার দাবি করেন। এ সময় এর বিরোধিতা করে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, “আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আবদুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাও নন এবং জকিগঞ্জ থানার কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও নন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাঁকে দলীয় ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে ধরিয়ে দেওয়া ন্যক্কারজনক।”
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বৈঠকের মধ্যেই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও যুবদল ছাত্রদলের কর্মীরা সমন্বয়ক পরিচয়ধারী জাফরকে টানাহেঁচড়া করে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে পুলিশ জাফর আহমদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিরাপদে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়।
একাধিক সূত্র জানায়, মবের নেতৃত্ব দেওয়া জাফর আহমদ জুলাইয়ের আন্দোলনে জকিগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদী। তিনি ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ১০৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে ওই মামলার এজাহারে আব্দুস শহীদের নাম নেই। অভিযোগ রয়েছে, জাফর আহমদ তার দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে আসামি করেছেন এবং পরবর্তীতে অনেকের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধাও নিয়েছেন। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। এর আগেও একাধিক মব-সন্ত্রাসের ঘটনায় তিনিসহ তার সহযোগীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, “আব্দুস শহীদকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাঁর কোনো দলীয় পদ-পদবীর তথ্যও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৫১ ধারায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।”
জামিনে মুক্তির পর সন্ধ্যার দিকে আবদুস শহীদ বলেন, জামিন পেয়ে বাড়িতে পৌঁছেছি। আমি বিএনপি, জামায়াতসহ আমার এলাকাবাসীর নিকট চির ঋণী।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান এবং সিলেট জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও জকিগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ঘটনাটিকে ‘মব-সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।” একই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মব সৃষ্টির পেছনে দায়ীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানান এবং সাধারণ মানুষকে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ছাত্র সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আব্দুস শহীদ আমার দায়ের করা মামলার আসামী। তাছাড়া পুলিশের ডেভিলদের তালিকায়ও তার নাম ছিল। আমি একজন গ্যাজেটেড জুলাই যোদ্ধাও। সেখানে পুলিশ এবং ইউএনওর সামনেই তারা আমাকে মারধোর করেন। আমি এখন সিলেট শহরে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয় জানতে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
জকিগঞ্জ সংবাদ-এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না
প্রতিষ্ঠাতা: রহমত আলী হেলালী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট