সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় এক ঘন্টার ব্যবধানে দু’টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টা ও রাত ১০ টায় পাশাপাশি দু’টি ইউনিয়নের দু’টি এলাকায় ভয়াবহ ছিনতাইয়ের এমন ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করে ফিল্মি স্টাইলে ভিকটিমকে বেঁধে মারধর করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। একই রাতে পাশাপাশি সময়ে এ রকম ভয়ংকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় পুরো উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জকিগঞ্জ থানা এলাকার মানুষজন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার ৮নং কসকনকপুর ইউনিয়নের চেকপোস্ট এলাকার ডরের মোরা নামক স্থানে জকিগঞ্জ পৌরসভার সদরপুর গ্রামের ময়নুল হক (৪০) এর ভাড়ায় চালিত সিএনজি গাড়ি যাত্রী সেজে চালকের হাত-বেধে, মুখে কস্টিপ পেছিয়ে বেধড়ক মারধর করে সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা। গাড়িটি অনটেষ্ট ছিল। আরিফা এন্ড রেদওয়ান পরিবহন’ নামের এই গাড়িটি মাত্র ৪ মাস আগে শো রোম থেকে এনেছিলেন গাড়ীর মালিক সয়ফুদ্দিন।
চালক জানান, জকিগঞ্জ বাজার থেকে কয়েকজন যুবক মিলে কালিগঞ্জ যাওয়ার কথা বলে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ‘আরিফা এন্ড রেদওয়ান পরিবহন’ ভাড়ায় নিয়ে যান। গন্তব্যে যাওয়ার পথিমধ্যে জকিগঞ্জ থানাধীন কসকনকপুর ইউপির ডরের মোরা এলাকায় যাওয়ার পর ড্রাইভারের হাত-পা কষ্টিপ দিয়ে বেধে বেধড়ক মারধর করে ওই স্থানে ফেলে সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার ৭নং বারঠাকুরী ইউনিয়নের শাহ শিতালং (রহ.)-এর মাজারের গেইটের সামনে খাশিরচক গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে জালাল মিয়া (৬০) ছিনতাই কারীদের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন। দূর্বৃত্তরা তার হাত পায়ের রগ কেটে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জকিগঞ্জের বারঠাকুরী ইউনিয়নের শাহ শিতালং (রহ.)-এর মাজার গেইটের সামনে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা পরিচালনা করেন জালাল মিয়া। তার ছেলে দুবাই প্রবাসী জিবান (২৫) এর পাঠানো আড়াই লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে দোকানে রাখা ছিল। প্রতিদিনকার মতো রাতে দোকান লাগিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা দেন জালাল মিয়া। এই সময় ছিনতাইকারীরা তার হাত পায়ের রগ কেটে গুরুতর জখম করে তার সাথে থাকা ছেলের পাঠানো নগদ আড়াই লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পরিদর্শক (তদন্ত) দু’জনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তবে থানার ডিউটিতে থাকা এসআই রমজান আলী বলেন, ঘটনা দু’টি আমরা শুনেছি। আমাদের পুলিশের একটি ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
Leave a Reply