বিয়ের আনন্দ-উচ্ছ্বাস শেষ হতে না হতেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল ফরহাদ আহমদের (২৫) জীবন। বিয়ের মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের জকিগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম বাসস্টেশনের পশ্চিম পাশের ব্রিজে বাসের চাপায় তিনি নিহত হন।
নিহত ফরহাদ আহমদ জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের সোনাসার এলাকার বারগাত্তা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মো. আব্দুস সুবহানের ছেলে। গত ১০ সেপ্টেম্বর কানাইঘাট উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকার মানিকপুর গ্রামে বিয়ে করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ছোট ভাই হালিম আহমদকে কানাইঘাট যাওয়ার জন্য সড়কের বাজারে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ফরহাদ। পথে আটগ্রাম বাসস্টেশনের পশ্চিম পাশের ব্রিজে জকিগঞ্জ থেকে সিলেটগামী একটি বাসের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন হালিম আহমদ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ভাই আমাকে সড়কের বাজারে নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় আমি তাঁকে ধীরে ধীরে যেতে বলেছিলাম। এরপর আমি কানাইঘাটের দিঘীরপারে চলে যাই। পথে তাঁকে আর ফোন দেওয়া হয়নি। এখন শুনতে পাচ্ছি, আমার ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।”
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মোমেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে জকিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং বাসটি জব্দ করা হয়।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসের চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
বিয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় ফরহাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। নতুন সংসার ঘিরে দেখা স্বপ্ন পূরণের আগেই তাঁর এমন বিদায়ে শোকাহত স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
Leave a Reply