জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং কাজলসার ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামে বাঘ দেখা গেছে-এমন একটি ছবি ও দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল বিষয়টিকে সম্পূর্ণ গুজব বলে নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, শুক্রবার রাত থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি বাঘের ছবি পোস্ট করে এলাকায় বাঘ ঢুকেছে বলে প্রচার করতে থাকেন। এতে ৩নং কাজলসার ইউনিয়নের পলাশ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কে? কখন? কোথায়? বাঘটি দেখেছে বা বাঘের ছবিটি কে তুলেছেন তার কোন সুনির্দিষ্ট জবাব কেউ-ই দিতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যাংকার আল আমিন হক ময়নুল এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “শুক্রবার থেকে ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে আমাদের এলাকায় বাঘ দেখা গেছে। কিন্তু ছবিটির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এটি গুগল থেকে সংগ্রহ করা বা কৃত্রিমভাবে তৈরি (এআই) ছবি বলে মনে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ছবিটি ভালোভাবে দেখলেই বোঝা যায় এটি বাস্তব পরিবেশে তোলা নয়। আমাদের এলাকায় এমন ঘুটঘুটে অন্ধকার পরিবেশও নেই, যেখানে এ ধরনের ছবি ধারণ করা সম্ভব।”
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এ ধরনের গুজব শুধু আতঙ্কই ছড়ায় না, বরং শিশুদের মনে অযথা ভয় তৈরি করে, যা তাদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিছু মানুষ শুধুমাত্র লাইক-ভিউ পাওয়ার আশায় এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করছেন, যা খুবই দুঃখজনক।” তিনি সবাইকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো পোস্ট শেয়ার না করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, তারা নিজেরাও এমন কোনো ঘটনা দেখেননি। তাদের মতে, হঠাৎ করে এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। অনেকেই বলেন, আগে কখনো এ এলাকায় বাঘ দেখা যাওয়ার ঘটনা শোনা যায়নি।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পলাশপুর এলাকায় বাঘ দেখা গেছে-এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করেছি। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি গুজব বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়ালে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply