জকিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির উদ্যোগে “আলোর পথে” কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নস্থ বিয়াবাইল বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ হাফিজ মজুমদার বিদ্যানিকেতনে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নারী-কেন্দ্রিক বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালার পাশাপাশি সীমান্ত সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা এবং ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনও অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জুবায়ের আনোয়ার পিএসসি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নারীদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে পারলে পরিবার ও সমাজ উভয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিজিবির সিলেট সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত এসএমও, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার,জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণসহ প্রায় ৪০০ জন উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সীমান্ত এলাকার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন নারী ও তরুণীকে এলইডি বাল্ব উৎপাদন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ সংযোজনসহ বিভিন্ন মৌলিক কারিগরি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকার অধিকাংশ মানুষ পাথর ও বালু উত্তোলনের মতো শ্রমনির্ভর পেশার সঙ্গে যুক্ত। এ বাস্তবতায় নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আয়োজকরা জানান, নারীদের ঘরে বসে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেই এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে সীমান্ত সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে স্থানীয়দের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া বিজিবি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনে সীমান্ত এলাকার প্রায় ৭১০ জন অসহায় ও বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন বিজিবির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি সীমান্ত এলাকার নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply