সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সৌদি আরব প্রবাসী ব্যবসায়ী হাফিজ নজরুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা ধার চাওয়া হচ্ছে। এমনকি ৫০ হাজার টাকা পাঠানোরও অনুরোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী।
হাফিজ নজরুল ইসলাম জকিগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাবাহারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাঁর মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি ইমু অ্যাকাউন্ট থেকে কল আসে। ওই ব্যক্তি হোটেলের রুম বুকিংয়ের কথা বলে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করতে না পারার অজুহাত দেখিয়ে একটি বারকোড বা কিউআর কোড দিতে বলেন। সরল বিশ্বাসে তিনি সেটি স্ক্যান করে দেওয়ার পর থেকেই তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তি অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার শুরু করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তাঁর পরিচিতজনদের কাছে বিভিন্ন নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাঠিয়ে টাকা ধার চাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, জুরাইন (আরবান) শাখার BARISAL TELECOM নামের হিসাব নম্বর ৪৫২৬৯০১০০০২৪০ এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, চকবাজার শাখার SHOWKAT ALI নামের হিসাব নম্বর ১৩৯১১২০০৪৬০৭৫ উল্লেখ করা হয়েছে।
এই দুটি মোবাইল নম্বরে বিকাশে টাকা চাওয়া হয় ০১৮৭২২৯৯৬৭৫ ও ০১৮৪২৭২৯৭১০ উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, এসব নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য ব্যবহার করে তাঁর পরিচিতজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে এক ব্যক্তির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার ঘটনাও জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও পরিচিতজনদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় গত ৩১ অক্টোবর সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেন হাফিজ নজরুল ইসলাম। আবেদনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, প্রবাসী ব্যবসায়ী হাফিজ নজরুল ইসলামের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা চেয়ে বার্তা এলে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে টাকা না পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সতর্কতা: অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান, সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের ভেরিফিকেশন কোড অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। পরিচিত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা চাওয়ার বার্তা এলে আগে যাচাই করুন।
Leave a Reply