1. admin@zakiganjsangbad.com : admin :
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন মুফতি আবুল হাসান এমপি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে–মুফতি মুহাম্মদ আবুল হাসান এমপি জকিগঞ্জে বাবার বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার সারাদেশের ন্যায় জকিগঞ্জে ফারিয়ার মানববন্ধন জকিগঞ্জে ভারতীয় মদসহ আটক ১ জকিগঞ্জে পিঠা উৎসবে ফাহিম আল্ চৌধুরীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকরা হলেন জাতির বিবেক ও সমাজের দর্পণ— মুফতি আবুল হাসান এমপি আল-মাদানী পরিষদ আমলশীদ এর অফিস উদ্বোধন সম্পন্ন বর্ণাঢ্য আয়োজনে আরোহী সংগীত একাডেমি’র বাংলা বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত মানবতার ফেরিওয়ালা’ ফাহিম আল চৌধুরীর বহুমুখী সমাজসেবার অজানা উপাখ্যান 

জকিগঞ্জে পিঠা উৎসবে ফাহিম আল্ চৌধুরীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

খাইরুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

শিল্পপতি ফাহিম আল্ চৌধুরী সিলেট অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের নিকট পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি নাম। তিনি এলাকায় গরীব ও অসহায় মানুষকে দীর্ঘ প্রায় দুইযুগ থেকে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে নীরবে ভূমিকা রেখে আসছেন। ফাহিম আল্ চৌধুরী ট্রাস্টের মাধ্যমে এসব কাজ করলেও তিনি মাঠে ময়দানে থাকেন কম। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত ফাহিম আল্ চৌধুরীকে কাছে থেকে সরাসরি দেখার আগ্রহ নতুন প্রজন্মের অনেকের।

সেদিন বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয় আয়োজিত পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত হলে তাকে একেবারে কাছাকাছি পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন শিক্ষার্থীরা। তিনিও তাদের নিকট থেকে পিঠা কিনে খাওয়া, বকশিস দেয়া, ছবি তোলা এবং মজার মজার কথা বলে উচ্ছ্বসিত করে তুলেন।

জানা যায়, বাঙালি সংস্কৃতির সাথে আষ্টেপৃষ্টে মিশে আছে পিঠাপুলির নাম। তবে আধুনিক পিজ্জা বার্গারের ছোঁয়ায় পিঠাকে ভুলেই যেতে বসেছিলো বাঙালি। কিন্তু ধীরে ধীরে বাঙালির জীবনে ফিরে আসছে ঐতিহ্যবাহী পিঠা।

বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে জকিগঞ্জের একাধিক বারের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব। সেদিন পিঠা পুলির ঘ্রাণে মুখোরিত হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

দেশি বাহারি পিঠা প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানো হয়। পিঠা উৎসব উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকদের আগমনে স্কুল প্রাঙ্গণ মিলন মেলায় পরিণত হয়।

উৎসবে ছিলো হরেক রকমের পিঠার আয়োজন। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানান ধরনের মুখরোচক পিঠা প্রদর্শনী করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা এবং ঐতিহ্য ধরা রাখাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্টলে নানা আইটেমের পিঠা নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি করা এসব পিঠা দেখতে বিভিন্ন স্টলে ভিড় করেছিল শিক্ষার্থী ও অতিথিবৃন্দ।

স্টলে নানা রকম পিঠাপুলির পসরা সাজিয়ে রাখা আছে। এর মধ্যে কতিপয় পিঠা একেবারেই নতুন আবার কিছু অতিপরিচিত। প্রতিটা পিঠার ওপরে লেখা আছে পরিচিতি নাম। এসব পিঠার নামও বেশ বাহারি।

একজন অবিভাবক বলেন, পিঠা উৎসব এখন আনুষ্ঠানিকতায় পরিনত হয়েছে। এই উৎসবের কারণে গ্রামের সেই পিঠাপুলির ঘ্রাণ নিতে পারছি, স্বাদ নিতে পারছি। এখানে এসে বেশ ভালো লাগছে।

একজন শিক্ষার্থী জানায়, বাহারি রকমের এতো পিঠা একসঙ্গে এরআগে কখনো দেখা হয়নি। আজ স্কুলে পিঠা উৎসব। সহপাঠীদের সঙ্গে পিঠা খাচ্ছি। অনেকে সিনিয়র ও জুনিয়র আপু ভাইয়ারা পিঠা বিক্রি করছে এতে খুব আনন্দ হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, পিঠা-পুলি হলো আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই প্রকাশ। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে স্মরণ করতেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে এ উৎসবের আয়োজন করেছেন। বেশ ভালো লাগছে।

বিদ্যালয়টির সাবেক একজন শিক্ষার্থী বলেন, পিঠা উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাঙালির নানা রকমের পিঠার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ধরে রাখতে হলে এরকম আয়োজনের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। পিঠা উৎসবকে উপলক্ষ করে অনেকদিন পর স্কুলে আসলাম। বেশ ভালোই লাগলো।

বিকাল ২ ঘটিকায় মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থিত ফাহিম আল্ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সৃজন ও সুখের উৎসব। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাব্বির আহমদের সভাপতিত্বে ও শিক্ষিকা জোবেদা আক্তারের উপস্থাপনায় শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করে শিক্ষার্থী সাইফ আল ইসলাম চৌধুরী ও নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন করেন শিক্ষার্থী বুশরা আক্তার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফাহিম আল্ চৌধুরী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শিল্পপতি ফাহিম আল্ চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন- বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে পিঠা উৎসব আমাদের অতিত সংস্কৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আগের দিনে আমাদের মা-চাচী ও খালারা আমাদেরকে বিভিন্ন জাতের পিঠা খাওয়াতেন। আজকের দিনে সেই অতিতের দিনগুলো বারবার মনে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন- লেখাপড়া করে শিক্ষিত মানুষ হওয়া যায়। কিন্তু ভালো মানুষ হতে হলে আপনাকে আদর্শবান হতে হবে। একজন আদর্শ মানুষের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন তার পিতা-মাতা। কোন মানুষ জীবনে কিছুই করতে না পারলেও জীবনে পিতা-মাতার হক্ব যথাযথভাবে আদায় করতে পারলে সে একদিন অনেক বড় হবে। একজন সন্তানকে বুঝতে হবে পৃথিবীতে পিতা-মাতার চেয়ে বড় পীর আর কেউ হতে পারেন না। পৃথিবীতে একমাত্র পিতা-মাতা সন্তানের জন্য এবং সন্তান পিতা-মাতার জন্য দোয়া করলে আল্লাহ ফেরত দেননা। তাই আমাদের সবাইকে সবকিছুর উর্ধ্বে পিতা-মাতাকে সম্মান দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জকিগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি মোঃ আব্দুল হামিদ, মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাবের সিলেট ব্যুরো প্রধান ফয়সাল আমীন, সাপ্তাহিক জকিগঞ্জ সংবাদ সম্পাদক রহমত আলী হেলালী, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মুন্না ও জকিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুশ শহীদ তাপাদার প্রমূখ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
জকিগঞ্জ সংবাদ-এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না
প্রতিষ্ঠাতা: রহমত আলী হেলালী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট