1. admin@zakiganjsangbad.com : admin :
  2. wordpresscore@wpengine.com : wordpresscore :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিশু ট্রাইব্যুনালের পিপি হলেন এড. মোস্তাক আহমদ আমরা হিন্দু মুসলমান একই চায়ের কাপে চা পান করে বড় হয়েছি—মুফতি আবুল হাসান এমপি জকিগঞ্জ-শেওলা সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করলেন মুফতি আবুল হাসান এমপি লামারগ্রাম এলাকাবাসীর সঙ্গে খলাছড়ার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী গুলজারের মতবিনিময় জকিগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে খলাছড়া ইউপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আহমদ উল্লাহ গুলজারের মতবিনিময় নুমান হত্যার এক বছর: থানা থেকে সিআইডি, তবুও রহস্য অধরা জকিগঞ্জে আল মাদানী পরিষদ আমলসীদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা জকিগঞ্জে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের তৃণমূল সাংগঠনিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত জকিগঞ্জে বায়তুন নুর জামে মসজিদের ওজুখানার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান

মানবতার ফেরিওয়ালা’ ফাহিম আল চৌধুরীর বহুমুখী সমাজসেবার অজানা উপাখ্যান 

মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে মানবতা, শিক্ষা ও উন্নয়নের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে পরিচিত জনাব ফাহিম আল চৌধুরী। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি পিতৃ-মাতৃহীন এক পথশিশুর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন এবং ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’-তে পরিণত হন। শিশুটির লেখাপড়া, ভরণপোষণ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অঙ্গীকার তাঁর মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে তাঁর অন্যতম বড় উদ্যোগ “ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট”। দরিদ্র, মেধাবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নিবেদিত এই ট্রাস্ট ইতোমধ্যে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। ২০২৪ সালে ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত “মেধাবৃত্তি পরীক্ষা”-তে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার ২৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণির প্রায় ২০৮১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ৫৯২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারীকে উন্নতমানের স্কুলব্যাগ প্রদান করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও ট্রাস্টের অধীনে মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলা এবং তাদের শিক্ষাজীবনে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ট্রাস্টের লক্ষ্য ও কার্যক্রম বহুমুখী। এর মধ্যে রয়েছে—মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, নারীদের শিক্ষার উন্নয়নে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, যুবসমাজের জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করাও এই ট্রাস্টের অন্যতম লক্ষ্য।

সমাজে ট্রাস্টের প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে এই উদ্যোগগুলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাস্ট প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে, যা ভবিষ্যতে ১০ কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে—এর মাধ্যমে ট্রাস্ট আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

শুধু শিক্ষা ও সমাজসেবাই নয়, ক্রীড়াক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় অবদান রয়েছে। সিলেটের ক্রীড়ার অগ্রযাত্রায় তিনি “সিলেট টাইটান্স”-এর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই সম্পৃক্ততা তরুণদের ক্রীড়ায় আগ্রহী করে তুলছে এবং আঞ্চলিক ক্রীড়ার বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ব্যক্তিগত জীবনে ফাহিম আল চৌধুরী সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার মহিদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত ডা. মৌলভী আব্দুল মুসাব্বির চৌধুরী এবং মাতা প্রয়াত জাহানারা বেগম চৌধুরী। সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি অষ্টম সন্তান। উচ্চশিক্ষিত এই গুণী ব্যক্তি যুক্তরাজ্য, আরব আমিরাত, আফ্রিকা ও কানাডায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বর্তমানে তিনি Feeha Capital and Micro Finance, Farishta Bint Fahim Property Ltd. এবং Fahim the Developer Real Estate Development LLC-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সমাজের সচেতন মহলের মতে, ফাহিম আল চৌধুরীর মতো মানুষই একটি অঞ্চলের প্রকৃত সম্পদ। তাঁর মানবিকতা, শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। মানবতার এই আলোকবর্তিকা অব্যাহত থাকলে একটি শিক্ষিত, উন্নত ও সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
জকিগঞ্জ সংবাদ-এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না
প্রতিষ্ঠাতা: রহমত আলী হেলালী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট