হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে প্রবাসজীবন কাটালেও জন্মভূমির প্রতি টান যেন কখনোই কমে না। দুর্যোগ-দুর্ভোগে নিজের গ্রামের মানুষের কথা মনে পড়ে বারবার। সেই ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তান মো. খছরুল আমিন চৌধুরী সাহেল।
প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি নিয়মিত নিজ অর্থায়নে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে চলতি বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া একাধিক রাস্তা ও একটি কালভার্ট সংস্কার করে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিজনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. খছরুল আমিন চৌধুরী সাহেল মরহুম আলহাজ্ব হিফজুর রহমান চৌধুরীর সন্তান। হিফজুর রহমান চৌধুরী ছিলেন এলাকার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও জনদরদি ব্যক্তি। এলাকাবাসীর ভালোবাসায় তিনি ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরও মানুষের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ উত্তরাধিকারসূত্রে ধারণ করেছেন ছেলে খছরুল আমিন চৌধুরী সাহেল।

জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করলেও জন্মভূমির প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটুকুও কমেনি। বরং এলাকার মানুষের যেকোনো সংকট, দুর্যোগ কিংবা প্রয়োজনের খবর পেলেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে উত্তর জিয়াপুর (পাগলির পার) আনোয়ার মিয়ার বাড়ির সম্মুখ থেকে ইসলাম মিয়ার বাড়ির সম্মুখ পর্যন্ত কাদাযুক্ত রাস্তা, দক্ষিণ জিয়াপুরে মরহুম কুতুব আলী মিয়ার বাড়ির সম্মুখ থেকে বুরহান মিয়ার বাড়ির সম্মুখ পর্যন্ত রাস্তা, কলিয়ার মিয়ার বাড়ির সম্মুখ থেকে রফিক মিয়ার বাড়ির সম্মুখ পর্যন্ত রাস্তা এবং দরগাবাহারপুর মাঝের মহল্লায় মরহুম মোতাহির আলী মিয়ার বাড়ির সম্মুখ থেকে পেড়াই মিয়ার বাড়ির সম্মুখ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া মরহুম খলিলুর রহমান (খলু) মিয়ার বাড়ির সামনের কালভার্টও মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে আরও তিনটি রাস্তার সংস্কারকাজ তাঁর অর্থায়নে চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, বিভিন্ন সময় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন খছরুল আমিন চৌধুরী সাহেল। করোনাভাইরাস মহামারি, বন্যা এবং শীতকালীন দুর্যোগে তিনি খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছেন। নীরবে-নিভৃতে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাই তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এ বিষয়ে মো. খছরুল আমিন চৌধুরী সাহেল বলেন, “আমি প্রবাসে থাকলেও আমার মন পড়ে থাকে নিজের গ্রাম ও মানুষের কাছে। ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পরিবার থেকে পেয়েছি। আল্লাহ যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে মানুষের উপকার করার চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ওয়ার্ডের অনেক মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করেন। কে কী অবস্থায় আছেন, সে খবর রাখার চেষ্টা করি। অর্থ-সম্পদ চিরস্থায়ী নয়। তাই যতদিন সামর্থ্য আছে, ততদিন মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, প্রবাসে থেকেও নিজের এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে যেভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মো. খছরুল আমিন চৌধুরী সাহেল, তা অন্য প্রবাসীদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Leave a Reply