সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর সীমান্ত ভাঙন ও এর ফলে দেশের মানচিত্রে সৃষ্ট পরিবর্তন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে তিনি জকিগঞ্জ কাস্টমস ঘাটের সম্মুখ থেকে হাইদ্রাবন্দ এলাকা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সীমান্ত ভাঙনের বর্তমান অবস্থা, নদীর গতিপথের পরিবর্তন এবং এর ফলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নদীভাঙনের তুলনায় জকিগঞ্জের সীমান্তবর্তী কুশিয়ারা নদীর ভাঙন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। কারণ, এখানে নদীভাঙনের ফলে শুধু বসতভিটা বা কৃষিজমিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; বরং আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন ভূখণ্ডের পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের মানচিত্রেও প্রভাব পড়ে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারের সুযোগ না থাকায় এ ভাঙন স্থানীয়দের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০১০ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কারণে জকিগঞ্জ সীমান্তের প্রায় ২ হাজার ৬০০ একর ভূমি ভারতের দখলে চলে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। সম্প্রতি জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মোহাম্মদ আবুল হাসান জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে বিষয়টি উত্থাপন করলে সীমান্ত ভাঙন ও দেশের মানচিত্রের পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ, জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামুয়েল সাংমা, বিজিবির সুবেদার মো. শাহ আলম, জকিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সুজন মিয়া এবং বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
Leave a Reply