জকিগঞ্জে আয়োজিত একটি সম্মেলনে সিলেট ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা হুসাম উদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য ঘিরে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও প্রটোকল ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রেখেছিলেন। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
গত সোমবার (৮ জুন) জকিগঞ্জ ডাকবাংলো মাঠে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার উপজেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে তিনি কোনো প্রশাসনিক সহযোগিতা পাননি,উল্টো প্রশাসনিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। নিজ জন্মভূমিতে এসে “অপরিচিত মানুষের মতো” অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তাকে হতাশ করেছে।তিনি এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন,অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি সত্যিই প্রশাসনিক বাধা থাকত, তাহলে অনুষ্ঠান সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলতে পারত না। তিনি আরও জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রটোকল বা প্রশাসনিক সহযোগিতার আবেদন করা হয়নি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন ছাড়া এ ধরনের বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।”
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রটোকল ব্যবস্থা রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট মর্যাদাক্রম ও প্রটোকল কাঠামো রয়েছে। তবে সাবেক সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে সব ধরনের অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক প্রটোকল প্রদানের কোনো বিধান নেই।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন প্রটোকল বা নিরাপত্তা সহযোগিতা চাইলে তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হয়। আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়। এটি কোনো বাধ্যতামূলক আইন নয়, বরং প্রশাসনিক বিবেচনার বিষয়। কিন্তু এ ঘটনায় অনুষ্ঠান আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুলিশের সাহায্য চেয়ে কোনো আবেদন দাখিল করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে সাবেক সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও প্রশাসনের পাল্টা ব্যাখ্যা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বলছেন, যেহেতু আইন অনুযায়ী সাবেক এই সংসদ সদস্যকে প্রটোকল দেওয়ার কোনো বিধান নেই, সেহেতু প্রশাসনের প্রতি তাঁর উত্থাপিত অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
Leave a Reply