সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধরনের ভাতা পেতে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস। তিনি জানান, সরকারি ভাতা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয় এবং এ সেবা গ্রহণে কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তার প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সচেতনতামূলক বার্তায় তিনি জকিগঞ্জবাসীর প্রতি এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এর মধ্যে ভাতা কার্যক্রম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, ভাতা পেতে আগ্রহীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন অথবা প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদন জমা হওয়ার পর তা উপজেলা পর্যায়ের অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এরপর ইউনিয়ন বা পৌরসভা কমিটি আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই, দারিদ্র্যের মানদণ্ড মূল্যায়ন এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে সুপারিশ তালিকা প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে উপজেলা কমিটির সভায় তালিকা পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, অনুমোদিত উপকারভোগীদের তথ্য এমআইএস সার্ভারে সক্রিয় করার পর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে প্রতি তিন মাস অন্তর ভাতার অর্থ সরাসরি পাঠানো হয়।
বিনয় ভূষণ দাস বলেন, সরকারি ভাতা পেতে কোনো ব্যক্তি যদি অর্থ দাবি করে, তবে সেটি প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের দালাল বা প্রতারকের প্রলোভনে কেউ যেন পা না দেন এবং কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন না করেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য সারা দেশের মতো জকিগঞ্জ উপজেলাতেও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারি পাঁচ ধরনের ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার ১ আগস্ট থেকে আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা চলবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।
Leave a Reply