সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান জাতীয় সংসদে জকিগঞ্জ সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জকিগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত জকিগঞ্জ সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা প্রয়োজন।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি স্পিকারের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ দাবি জানান। এ সময় সংসদে সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে মুফতি আবুল হাসান বলেন, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা শিক্ষা খাতে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। জকিগঞ্জ উপজেলা জেলা শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর অনার্সে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ব্যয় এবং আবাসনসহ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও মেধার কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজন শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ। তাই জকিগঞ্জ সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা জরুরি।
জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫টি প্রধান কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কোনো কলেজে অনার্স কোর্স চালু নেই। উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জকিগঞ্জ সরকারি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৮৫ সালের ১০ নভেম্বর জকিগঞ্জ কলেজের উদ্বোধন করা হয় এবং ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর সরকারি আদেশের মাধ্যমে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠার চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কলেজটিতে এখন পর্যন্ত অনার্স কোর্স চালু হয়নি। ফলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য দূরবর্তী এলাকায় যেতে বাধ্য হচ্ছে।
সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের পর স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জকিগঞ্জের শিক্ষার্থীরা নিজ উপজেলাতেই অনার্স পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি দাবি বাস্তবায়িত হবে।
Leave a Reply