বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদে নির্বাচন করে দলীয় সকল পদপদবী থেকে বহিস্কার হওয়া সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন বিএনপি কখনো ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন। বহিষ্কৃত হওয়ার পরও বিএনপি’র প্রতি নিজের অবিচল আনুগত্য ও দৃঢ় অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে পরিস্কার জানিয়েছেন- তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলেও তিনি আমৃত্যু বিএনপির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবেই থাকবেন।
বিএনপি’র প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, আমাদের দেশে অনেকের কাছেই রাজনীতিটা একটা পেশা! যারা এই ভাবনা নিয়ে থাকেন, তাদের কে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিতে চাই, আমি রাজনীতি করি শখে! আর এই শখটা হলো মানব সেবা। এটাকে আমার একটা নেশাও বলতে পারেন। এটা আমার পেশা নয়। কলেজ জীবনের শুরুতেই একটি আদর্শীক জায়গা নিজের চিন্তাধারার সাথে মিলে যাওয়ায় এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, তাঁর দেশপ্রেম, জাতিকে নিয়ে সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা এই সবকিছুই আমার কমল মনে দাগ কেটেছিল!! সেই থেকে ছাত্রদলের সাথে যুক্ত; পরবর্তীতে বিএনপি । জীবনে যতদিন বেঁচে থাকবো, এখান থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোন সুযোগ নাই। সারাজীবন রাজনীতি করতে হবে, এমন তো কোন কথা নাই। দুনিয়ার সব পেশায় অবসর আছে। শুধু বাংলাদেশে রাজনীতি পেশায় মনে হয় অবসর নাই। পৃথীবির সব বড় বড় রাজনীতিবিদদের দিকে তাকান।
দেখবেন তারা জীবনের একটা সময় এসে রাজনীতি ছেড়ে অবসর নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করছে। আমি তো রাজনীতিকে পেশা মনে করি না। তাই যদি প্রয়োজন মনে করি এবং আমার এলাকার মানুষ যদি তেমন পরামর্শ দেয়, তাহলে না হয় রাজনীতি থেকে প্রয়োজনে অবসর নিবো। কিন্তু কোন ভাবেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে রাজনীতি করবো না।
যারা মিথ্যা ফোটকার্ড তৈরী করে আমার রাজনৈতিক চরিত্র হননের চেষ্টা করছেন, তাদের বলছি, অযথা কষ্ট করে এগুলো তৈরী করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবেন না । জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষ এবং আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সাথীরা জানে, আদর্শীক জায়গায় আমি কতটা শক্তিশালী ।
তবে ধন্যবাদ আপনাদের কে। সারাক্ষণ আমাকে নিয়ে আপনারা যে ভাবেন, আপনাদের ভাবনা এবং সেটার বহিঃপ্রকাশ মাধ্যমে আমাকে যে সবসময় আপনারা প্রসঙ্গিক করে রাখেন তার জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা ।
এদিকে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকার তৃণমূল বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাকসু মামুনের এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, দলের দুঃসময়ে তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার এমন শক্ত অবস্থান দলের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে। এখন দেখার বিষয়, আগামীতে দলের হাইকমান্ড তাঁর এই নিবেদন এবং রাজনৈতিক অবদানের কথা বিবেচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না।
Leave a Reply