জকিগঞ্জের খ্যাতনামা আলেমেদ্বীন, প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস ও হাজারো আলেমের প্রিয় উস্তাদ মাওলানা আব্দুস সবুর বিদেশী হুজুরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল সাড়ে ৫টায় জকিগঞ্জের মুনশীবাজার মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন তাঁর অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত, মুরিদ, সহকর্মী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। জোহরের পর থেকেই মাদরাসা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। প্রিয় উস্তাদকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় জামাতা মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব। এসময় মরহুমের ইলমি খেদমত, তাকওয়া, বিনয়ী জীবনাচার ও ছাত্রগঠনে অবদানের কথা স্মরণ করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, মাওলানা আব্দুস সবুর বিদেশী হুজুর ছিলেন ইলম ও আমলের এক উজ্জ্বল প্রতীক। সারাজীবন দ্বীনের খেদমত ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি।
জানাজা পূর্ববর্তী বক্তব্যে মুনশীবাজার মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি মাহমুদ হুসাইন বলেন, তিনি ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুহাদ্দিস ও আদর্শ শিক্ষক। প্রবাসে ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও শায়খে মামরখানী রহ. এর অনুরোধে দেশে থেকে দ্বীনি খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন মাওলানা আব্দুস সবুর। সোমবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরার পর মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি।
মরহুম মাওলানা আব্দুস সবুর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মুনশীবাজার মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি নিজ মহল্লার মসজিদের মুতাওয়াল্লী হিসেবেও দীর্ঘ ২৮ বছর দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে জকিগঞ্জসহ দেশের ইলমি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন আলেম-উলামা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
Leave a Reply