সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় হাসনা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি ওঠায় ঘটনাটি রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রামের মৃত আব্দুল মোমিনের স্ত্রী হাসনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের মেয়ে নাসিমা, মাসুমা, হান্না ও ছেলে ফজলুর দাবি, তাদের বড় বোনের মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানির বাড়িতে বসবাস করছিল। রোববার সকাল ৮টার দিকে বড় বোন ও তার স্বামী মেয়েকে নিতে বাড়িতে এলে সে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি, তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হাসনা বেগম আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে প্রবাসে থাকা হাসনা বেগমের দুই ছেলে মুহিউস সুন্নাহ ও শরীফ খান কমরু, মেয়ে মরিয়ম বেগম এবং তার বোন হাসিনা বেগমের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের ভাষ্য, তিনি অসুস্থতাজনিত কারণেই স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন।
স্থানীয় বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু বলেন, “হাসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”
জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ মো. আব্দুল আহাদ বলেন, “হাসনা বেগমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।”
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের মতে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই বৃদ্ধার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
Leave a Reply