সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মজুমদারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা না থাকার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির ছবি প্রকাশের পর এ বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়।
গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) ঢাকাস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে হাফিজ আহমদ মজুমদারের উপস্থিতি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ঘটনাটিকে সিলেটের রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—আওয়ামী লীগের মনোনয়নে একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্য এতদিন কোথায় ছিলেন এবং তিনি আদৌ আত্মগোপনে ছিলেন কি না। আবার কেউ কেউ তাঁর সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততা নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মজুমদারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সিলেট জেলার এক নেতা দাবি করেন, তিনি আজ কিছুটা অসুস্থ থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারেননি। তিনি কখনো আত্মগোপনে ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যেমন দেশে ছিলেন, পরেও তিনি দেশেই অবস্থান করছেন। বয়স ৯০ বছরের বেশি হওয়ায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশির ভাগ সময় রাজধানীর নিজ বাসভবনেই থাকেন। তবে সুযোগ পেলেই সিলেট, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান।’
তিনি আরও জানান, হাফিজ আহমদ মজুমদার অতীতে পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি এসব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেও বর্তমানে গ্রীন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া ওই নেতা বলেন, ‘হাফিজ আহমদ মজুমদার ২০১৪ সালের একতরফা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। তাই তাঁকে আত্মগোপনে ছিলেন—এমন দাবি সঠিক নয়।’
Leave a Reply